Posts

🌏 মহীসঞ্চারণ তত্ব ( Alfred Wegner -1912)🌍

Image
🌏 মহীসঞ্চারণ তত্ব ( Alfred Wegner -1912)🌍 -------------------------------------------------------------------                        মহীসঞ্চারণ তত্ব  ⭐ ১৯১২ সালে বিজ্ঞানী আলফ্রেড ওয়েগনার প্রথমবার মহীসঞ্চারণ তত্ব উপস্থাপন করেন। এই তত্বটি মহাদেশ সৃষ্টি , চলন ও মহাদেশগুলির মূল একক বৃহত্তম মহাদেশ একক ( Pangea ) থেকে সৃষ্টি তার সপক্ষকে তুলে ধরে। এছাড়াও একধিক মহাদেশে সমপ্রকৃতির জীব , শিলা , জীবাশ্ম অঞ্চল ও প্রান্তদেশের যে মিল পাওয়া যায় তার কারণ পর্যালোচনা করে থাকে। এই তত্বটি খুবই সহজ এবং সহজভাবে উপস্থাপন করা যায়।  ⭐ প্যাঞ্জিয়া : সাধারণত পৃথিবীতে বর্তমান যে সমস্ত মহাদেশ সৃষ্টি হয়েছে তারা প্রাচীন কালে একটি একক ছিল ( সব মহাদেশ গুলি একসঙ্গে একটি বড়ো একক অতিমহাদেশীয় একক হিসাবে অবস্থান করত ) এই একক বড়ো স্থলভাগ বা অঞ্চলটিকেই বলা হয় প্যাঞ্জিয়া ।  ⭐ প্যানথালসা : প্যানথালসা হল প্যাঞ্জিয়া ছাড়া বাকি সামগ্রিক মহাসাগরীয় অঞ্চলটি। অর্থাৎ প্রশান্ত, ভারত , আটল্যাণ্টিক সহ বাকি মহাসাগরীয় অঞ্চলে ও পাত একীভূত ছ...

🌏 জলবায়ুগত বৃহৎ নিয়ন্ত্রক সমূহ 🌏

Image
🌏 জলবায়ুগত বৃহৎ নিয়ন্ত্রক সমূহ 🌏 -------------------------------------------------------            জলবায়ুগত বৃহৎ নিয়ন্ত্রক সমূহ সাধারণত আমরা জানি সমুদ্র জলতল তাপমাত্রা বায়ুর চাপ ও সম্পর্কিত বায়ুপ্রবাহকে পরিবর্তন করে থাকে। ব্যাপক ভাবে সাগরের দুটি বিপরীত মেরুতে তাপমাত্রার পরিবর্তন কোনো একটি বা একাধিক জলবায়ুর উপর প্রভাব বিস্তার করে।  ⭐ যেসমস্ত বিষয়গুলি সাগরের তাপমাত্রা, বায়ুরচাপ , বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের তারতম্যের সঙ্গে দায়ী সেগুলি হল - ১) দেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাস ২) বায়ুর চাপের বৃহৎ অঞ্চলে পরিবর্তন ৩)  বায়ু প্রবাহের পরিবর্তন সক্রিয়তা ও দুর্বলতা ৪) স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন ৫) ঘূর্ণিঝড় ও ক্রান্তীয় সিস্টেমের উপর প্রভাব ৬) খরা ও বন্যা ।  🛑 এল নিনো : " প্রশান্ত মহাসাগরের দুষ্টু ছেলে হল  এল নিনো " । দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলীয় এলাকায় হিম শীতল হামবোল্ট স্রোতের জায়গায়  জলতল তাপমাত্রা বেশি হয়ে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। সাধারণত নিরক্ষরেখার উভয় দিকে ২০° উ ও দ অক্ষাংশের মধ্যেই এল নিনো স্রোতের সব থেকে ব...

🌏 অগ্নুৎপাত সম্বন্ধীয় নানা মজার তথ্য 🌍

Image
🌏 অগ্নুৎপাত সম্বন্ধীয় নানা মজার তথ্য 🌍               অগ্ন্যুৎপাতের মজার তথ্য ⛰️ সাধারণত পৃথিবীর যত ভিতরে যাওয়া যায় ভূপৃষ্ঠ থেকে তত তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। পৃথিবীর ওই অংশের বস্তু সমূহ ( খনিজ পদার্থ , শিলা ও নানা ধরনের গ্যাস ) তরল অবস্থায় এবং আরো নীচে চাপ ও তাপে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। ভূ অভ্যন্তরের এই গলিত বা অর্ধগলিত পদার্থকেই বলা হয়ে থাকে ম্যাগমা। এই সমস্ত ম্যাগমা যখন ভূপৃষ্ঠ পর্যন্ত বিস্তৃত ফাটলের মাধ্যমে প্রবল উর্দ্ধমুখী চাপে উঠে আসার পদ্ধতিকেই বলা হয় অগ্নুৎপাত।  ⛰️ এই বড়ো বড়ো ফাটলগুলোকে বলা হয় কেন্দ্রীয় নল। এই কেন্দ্রীয় নলের চারপাশে আগ্নেয়পদার্থ ক্রমশ জমা হতে থাকে। এবং উঁচু হয়ে আগ্নেয়গিরি তৈরি করে। আগ্নেয়গিরি তিন রকম হয়ে থাকে - আগ্নেয় ভস্ম শঙ্কু , বিস্ফোরিত নল এবং বিমিশ্র আগ্নেয়গিরি। আগ্নেয় ভস্ম শঙ্কুকে সিণ্ডার কোন বলা হয়। আগ্নেয়গিরি থেকে ছাই বেশি নিস্ক্রমিত হলে জমা হয়ে তৈরি করে। দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে বিস্ফোরণের ফলে আগ্নেয় নলের কিছুটা দূরে আগ্নেয়পদার্থ জমা হয়ে তৈরি হয় । তৃতীয়টির ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে ভ...

🌍চ্যুতি ও চ্যুতি দ্বারা গঠিত ভূমিরূপ🌍

Image
🌍 নানা ধরনের চ্যুতি ও গঠিত ভূমিরূপ 🌍 ------------------------------------------------------------ ⛰️ সাধারণত ভূপৃষ্ঠে সম্প্রসারণ ও দুটি শিলাস্তরের মধ্যভাগের ফাটল বরাবর শিলাস্তরের উঠা নামা হয়ে থাকে। এমন ভূপৃষ্ঠের উপর পাশাপাশি অবস্থিত ফাটলগুলোকে বলা হয়ে থাকে চ্যুতি ( Fault ) । সাধারণত এই ফাটল বরাবর শিলাস্তরের উঠা নামা হয়ে থাকে এবং পরবর্তীতে বহিঃর্জাত শক্তির প্রভাবে ক্ষয় পেতে থাকে।  ⭐ চ্যুতিরেখা : যে রেখা বরাবর শিলাস্তরে চ্যুতি বা ফাটল দেখা যায় সেই কাল্পনিক রেখাকে বলা হয় চ্যুতিরেখা । ⭐ ঝুলন্ত ও পাদপ্রাচীর : চ্যুতিরেখা বরাবর শিলাস্তরের যে অংশটি অন্য শিলার সপক্ষে ঝুলে থাকে তাকে ঝুলন্ত প্রাচীর এবং যে শিলার সপক্ষে প্রাচীর ঝুলে থাকে তাকে পাদপ্রাচীর বলে।  ⭐ আয়াম ও নতি ( Strike & Dip ) : সাধারণত দুটি আলাদা শিলাস্তরের মধ্যে যে ১৮০° কোন গঠিত হয় তাকে আয়াম ও একটি শিলাস্তর অন্য শিলাস্তরের উপর হেলে থাকার মানকে নতি বলা হয়।  ⭐ ভৃগুতট ( Scrap ) : চ্যুতির দুদিকে শিলাস্তর ওঠানামার সপক্ষে দুটো শিলাস্তরের মধ্যে যে দেওয়াল বা ঢাল তৈরি হয় তাকে ভৃগুতট বলে।  ⭐ Bedding Plane : ...

সমুদ্র বক্ষের বিস্তৃতি{seafloor spreading}

Image
::::: সমুদ্রতলের বিস্তৃতি :::::                  (seafloor spreading) 1960 সালে মার্কিন ভূবিজ্ঞানী হ্যারি হ্যামন্ড হেস সমুদ্রবক্ষের সম্প্রসারণের ধারণা দেন।1962 সালে অধ্যাপক History of Ocean Basin বইটিতে মতবাদটি প্রকাশ করেন। পূর্ব ধারণা~ফ্রান্সিস বেকন এর আটলান্টিক মহাসাগর সৃষ্টি,ওয়েগনার এর মহাদেশীয় সঞ্চালন, আর্থার হোমসের তাপীয় পরিচালন স্রোত ইত্যাদি ধারণা হ্যারি হেসকে নতুন ভূগাঠনিক ধারণা তৈরিতে উৎসাহিত করে। মূল বক্তব্য~ ১.হোমস এর 'পরিচলন স্রোত তত্ত্ব' এর ভিত্তিতে তিনি বলেন ক্ষুব্ধমন্ডলে ম্যাগমার পরিচলন স্রোতের ঊর্ধ্বমুখী অংশে মহাসাগরীয় ভূত্বক ফেটে বা গলে গিয়ে অসংখ্য ফাটল ও চ্যুতি রেখা সৃষ্টি হয়। ২.লক্ষ লক্ষ বছর ধরে ওই ফাটল বরাবর অবিরাম ব্যাসল্ট জাতীয় লাভা নির্গত হয়ে সামুদ্রিক ভূত্বকের উপর সঞ্চিত হয়ে মধ্য সামুদ্রিক শৈলশিরা সৃষ্টি হয়।পরে পরে সমুদ্র বক্ষের বিস্তার ঘটতে থাকে,ম্যাগমা নির্গমনের সময় প্রবল চাপে ভূত্বক পাশের দিকে বিস্তার লাভ করে এবং মাঝের ফাঁকা অংশে লাভা জমে নতুন ভূত্বক সৃষ্টি হয়। ৩.এর ফলে মহাসাগরের দুদিকের সীমানা...

সমুদ্র জলের লবণতা (Salinity of ocean water)

Image
    (পৃথিবীর সমুদ্রজলের লবণতার                     নিয়ন্ত্রকসমূহ) পৃথিবীর সর্বত্র সমুদ্রজলের লবনতার পরিমাণ এক নয়। সমুদ্রজলে লবনতার নিয়ন্ত্রকগুলি হলো: A.বাষ্পীভবন~সূর্যতাপে সমুদ্রের জল থেকে জলীয় বাষ্প উৎপন্ন হয় কিন্তু লবণ বাষ্পীভূত হয় না।ফলে বাষ্পীভবনের কারণে সমুদ্র জলের লবনতা আপেক্ষিকভাবে বেড়ে যায়। 1.নিরক্ষীয় অঞ্চল~ নিরক্ষীয় অঞ্চল অধিক উষ্ণ হলেও বাষ্পীভবনের হার ক্রান্তীয় অঞ্চলের তুলনায় কম এই কারণে নিরক্ষীয় অঞ্চলে লবণতার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম। 2.ক্রান্তীয় অঞ্চল~ ক্রান্তীয় অঞ্চলের সমুদ্রে অধিক বাষ্পীভবন,অধিক উষ্ণতা এবং বায়ুর আদ্রতা অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় লবণতার পরিমাণ বেশি। 3.হিমমন্ডল~ হিমমন্ডলে বাষ্পীভবনের হার কম বলে মেরু অঞ্চলে সমুদ্রের জল কম লবণাক্ত। 4.দিক ও ঋতুর প্রভাব~  বাষ্পীভবনের পরিমাণ সমুদ্রের পূর্ব থেকে পশ্চিমে এবং বিভিন্ন ঋতুতে কিছুটা বাড়ে বা কমে। 5.বায়ুপ্রবাহের প্রভাব~ নিয়ত ও পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে বাষ্পীভবনের পরিমাণ বাড়ে।শুষ্ক ও শীতল বায়ু উষ্ণ সমুদ্রের উপর দিয়ে প্রবাহিত ...

মৃতের সাগর

Image
'মৃতের সাগর' বলা হয় কাকে এবং কেনো? ~ মধ্যপ্রাচ্যের ইসরায়েল এবং জর্ডনের মধ্যে অবস্থিত এবং শুধুমাত্র জর্ডন নদীর জলপুষ্ট মরুসাগরকে মৃতের সাগর বলা হয়।বস্তুত মরুসাগর কোন সাগর নয় এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 400 মিটার নিচে অবস্থিত একটি হ্রদ। মরুসাগরের লবনতা প্রায় 237 সহস্রাংশ (%•)।মরুসাগর এর মোট আয়তনের প্রায় 1-4 ভাগ খাদ্য লবন, পটাশিয়াম,চুন,আয়োডিন প্রভৃতি রাসায়নিক পদার্থে পরিপূর্ণ।ফলে মরুসাগরের জলের প্লবাতা বেশি।এই কারণে কোনও বস্তু মরুসাগরের জলে ডুবে যেতে পারে না।শুধু তাই নয় অত্যাধিক লবনতার জন্য মরুসাগরের জলে কোনো জীবজন্তু বসবাস করে না।উদ্ভিদ ও প্রাণী জন্মায় না।এই সাগরের নেই কোনো জীববৈচিত্র্য। তাই এই সাগরকে মৃতের সাগর বলে।